এসএন মিডিয়া,নিউজ ডেস্ক: চলে গেলেন কুচবিহার রাম ভোলা হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক তথা বিজেপির কোচবিহার জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি হরিপদ পাল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে হবার পর 19 অক্টোবর সকাল ১০:২৮ মিনিটে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।1930 সালের 5 জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাগেরহাটে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। মালদা জেলায় বিটি পড়ার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে সম্পর্ক। পরে কোচবিহার জেলায় তুফানগঞ্জ এন এন এম হাই স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। 1968 সালে কোচবিহার রামভোলা হাই স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন এবং 1998 সালে ওই স্কুল থেকে অবসর নেন। কোচবিহার জেলায় প্রথম বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন হরিপদ পাল।। পরবর্তীকালে 1992 সালে কোচবিহার জেলার বিজেপির দ্বিতীয় সভাপতি ছিলেন তিনি। 1968 সালে জনসংঘ দল কোচবিহারে শুরু করেন হরিপদ পাল। 1969 সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির তৈরি জনসংঘের কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন তিনি।1991 সালে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান। 1996,2001সালে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে। বি জেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন কোচবিহার জেলায় তার হাত ধরে শুরু হয়। সারদা শিশু তীর্থের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই কোচবিহার জেলায় সারদা শিশু তীর্থের বিস্তার ঘটেছে। বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, তপন সরকার, দেবব্রত সিনহা, কেশবরাও দীক্ষিত এর মতন সংঘের ও বিজেপির কার্যকর্তা ও প্রচারকদের সাথে কাজ করেছেন। তার পার্থিব্য শরীর বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে সোজা বাড়িতে আসে সেখানে শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস, রাম ভোলা হাই স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষক সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। পরে সেখান থেকে তার শেষ যাত্রা পৌঁছায় জেলা বিজেপি পার্টি অফিসে। সেখানে তাকে শ্রদ্ধা জানান বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মালতি লাভা রায়, প্রাক্তন বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা ও কার্যকর্তারা। বিজেপি জেলা পার্টি অফিস থেকে শেষ যাত্রা পৌঁছায় পিলখানার রবীন্দ্রনাথ মহা শ্মশানে। এখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ,উর্দু ,আরবি ও সংস্কৃতে সমান দক্ষ ছিলেন হরিপদ পাল। কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ী এলাকার বিবেক হরিপদ বাবুকে নিয়ে বিশেষ স্মৃতিচারণা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৃত্যু কালে হরিপদ বাবু 2 পুত্র, পুত্রবধূ,নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধকে রেখে গেলেন।
চলে গেলেন কুচবিহার রাম ভোলা হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক তথা বিজেপির কোচবিহার জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি হরিপদ পাল